ওয়েব ডেক্স:
রাজ্যের প্রায় ৪০ হাজারের মতো বুথে ভোটগ্রহণের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রে সামান্য অশান্তির খবর ছাড়া সামগ্রিকভাবে প্রথম দফার ভোটপর্ব ছিল শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ। এবার স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত বেশি হারে ভোট পড়ার পেছনে আসল কারণ কী? আর এই প্রবণতা ভবিষ্যৎ ফলাফলের ক্ষেত্রে কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
মূলত এবারের ভোট বৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে এসআইআর প্রক্রিয়া। সাধারণভাবে দেখা যায়, ভোটার তালিকা যত নির্ভুল ও হালনাগাদ হয়, ভোটের শতাংশ ততটাই বাড়ে। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যে মোট প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষই মৃত বা অন্যত্র স্থানান্তরিত বলে নির্বাচন কমিশনের দাবি। এতদিন এই বিপুল সংখ্যক নাম ভোটার তালিকায় থাকায় প্রকৃত ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম দেখাত। অর্থাৎ, কার্যত যে ভোট পড়ত তা মোট ভোটারের প্রায় ৯১-৯২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, তালিকায় অতিরিক্ত নাম থাকার কারণে শতাংশের হিসাবে সেটা কম মনে হত। এবারে সেই অপ্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভোটের হার ৮-১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি, এসআইআর ঘিরে ভোটারদের একাংশের মধ্যে একটা মানসিক চাপ বা আশঙ্কাও কাজ করেছে। অনেকেই মনে করেছেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে ভবিষ্যতে কোনও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে, যারা আগে ভোট দিতে অনীহা দেখাতেন, তারাও এবার বুথমুখী হয়েছেন। এমনকি, বহু পরিযায়ী শ্রমিকও অন্য রাজ্য থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন। এই দুই কারণ মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভোটদানের হার বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার প্রচেষ্টাও ভোট বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
এখন প্রশ্ন—এই বাড়তি ভোটের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী? দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত যে, বেশি ভোট পড়া মানেই শাসকবিরোধী হাওয়া। সেই যুক্তি ধরলে বিজেপির পক্ষে সুবিধা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফল এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। উদাহরণ হিসেবে বিহারের নির্বাচন ধরা যেতে পারে, যেখানে ভোটের হার বেড়েও ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে তেমন ফল দেখা যায়নি; বরং নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে সরকার আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে।
তবে এটাও ঠিক, ভোটের হার বৃদ্ধি অনেক সময় বড় ধরনের ‘ওয়েভ’-এর ইঙ্গিত দেয়, যা শাসক বা বিরোধী—দুই পক্ষের দিকেই যেতে পারে। বাংলার ক্ষেত্রে যেহেতু ভোটবৃদ্ধির পেছনে এসআইআর একটি বড় কারণ, তাই এই প্রক্রিয়া নিয়ে জনমতের প্রতিক্রিয়াও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পক্ষেও পরিস্থিতি অনুকূল হতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে দুই প্রধান শিবিরই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
বঙ্গ ভোটে রেকর্ড উপস্থিতি, বাড়তি ভোটের নেপথ্যে কী কারণ? কী ইঙ্গিত মিলছে ফলাফলে
Related Posts
তোলাবাজি মামলায় হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ
মোল্লা জসিমউদ্দিন, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনী স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ…
তৃণমূল, সিপিএম ও আইএসএফ ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ ২৫০ নেতা-কর্মীর
বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেক্স : বসিরহাট : বসিরহাটে তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম ও…
অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস মামলার রায়দান ১৬ সেপ্টেম্বর?
মোল্লা জসিমউদ্দিন, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অনুযায়ী ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস আপাতত খালি…
