প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য কাটোয়ায়, কাঠগড়ায় চিকিৎসক ও নার্সিংহোম
পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার মুরুন্দি গ্রামের গৃহবধূ সুস্মিতা প্রধানের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাটোয়া জুড়ে। পরিবারের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা, গাফিলতি এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামোহীন বেসরকারি নার্সিংহোমের কারণেই মৃত্যু হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় সুস্মিতা প্রধানকে প্রথমে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, ডক্টর আর এন মন্ডল নাকি রোগীর পরিবারকে পরামর্শ দেন হাসপাতালে নয়, তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা বেসরকারি কাটোয়া নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে। চিকিৎসকের কথায় ভরসা রেখে আর্থিক সঙ্কট উপেক্ষা করেই রোগীকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করান পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর রোগীর পরিবার জানতে চায় কখন অপারেশন হবে। তখন নার্সিংহোমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডাক্তারবাবু আসতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিট পরেই জানানো হয়, সুস্মিতা প্রধান একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ঘটনায় তখনই সন্দেহের সৃষ্টি হলেও নবজাতকের জন্মের আনন্দে বিষয়টি নিয়ে বেশি প্রশ্ন তোলেননি পরিবারের সদস্যরা।
সুস্মিতা প্রধানের স্বামী তাপস প্রধানের অভিযোগ, “যে সময় আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়, তখন ডাক্তারবাবু নিজের চেম্বারে ছিলেন। তাহলে অপারেশন করলো কে?”
পরিবারের দাবি, বিকেল পাঁচটা নাগাদ হঠাৎই সুস্মিতার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডক্টর আর এন মন্ডল নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে কাটোয়া হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় সুস্মিতা প্রধানের।
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও চরম গাফিলতির কারণেই অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে এক গরিব গৃহবধূকে। পরিবারের দাবি, এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবারের সঙ্গে এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অনিল দত্ত। তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ ওঠে, যে কাটোয়া নার্সিংহোমে রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল, সেই নার্সিংহোম চালানোর প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র পর্যন্ত নেই। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিকাঠামোরও অভাব ছিল বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল ওই নার্সিংহোম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের সদস্য ও বিজেপি নেতারা নার্সিংহোমে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর দাবি জানান। অভিযোগ, সঠিক কোনও নথি দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এখন গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রশ্ন একটাই— সুস্মিতা প্রধানের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? চিকিৎসকের গাফিলতি, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা নাকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মৃতার পরিবার সহ গোটা এলাকা।
কাটোয়া থেকে আমির মন্ডলের রিপোর্ট সুন্দর বাংলা নিউজ
