বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্ক | কলকাতা
সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, নারীকল্যাণ এবং সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে এক লক্ষ সরকারি চাকরি, মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি, নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ এবং শিল্পোন্নয়নের একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেটে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের DA-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে আগামী দিনে বিভিন্ন সরকারি দফতরে মোট এক লক্ষ নতুন চাকরি তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
নারীকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বাজেটে নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে বাজেটে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, হাসপাতালের উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য পেনশন প্রকল্প, ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের লক্ষ্যে AI মিশন চালুর কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে রাজ্যে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এর ফলে সরকারি পরিষেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে সরকারের আশা।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তবে বিরোধী দলগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। আগামী দিনে এই বাজেটের বাস্তবায়ন এবং তার প্রভাবের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের।
