নিজস্ব প্রতিনিধি,
কলকাতা হাইকোর্ট নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারের পথ প্রশস্ত করেছে। আদালত পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়গুলো দেখার জন্য পাঁচটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত নির্ধারণ করেছে।এই বিশেষ আদালতগুলো—যার মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং দুটি পোর্ট ব্লেয়ারে অবস্থিত—’পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর অধীনে নথিভুক্ত মামলাগুলোর ওপর মনোযোগ দেবে।
রাজ্যের উচ্চ আদালতের প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত আদালতগুলোর কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে -‘তারা চার্জশিট দাখিলের পর তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে, যা বিচার প্রক্রিয়ায় আরও তৎপরতা ও গুরুত্ব যোগ করবে।’ নিট পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অনিয়ম দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।
এই বিতর্কের জেরে সরকার পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে বাধ্য হয়। সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে এমন এক সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচনা করছে যা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, সরকারি পরীক্ষার গোপনীয়তা বা নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার দায়ে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর উদ্যোগেরও অংশ এই পদক্ষেপ। কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের জারি করা আদেশে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তাধীন মামলাগুলো পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আদালতগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।কলকাতায়, রাজ্য সংস্থার তদন্তাধীন বিষয়গুলো দেখার জন্য সিটি সেশনস কোর্টের ‘বেঞ্চ-১’-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তাধীন মামলাগুলো দেখবে সিটি সেশনস কোর্টের ‘বিশেষ সিবিআই আদালত-২’। এছাড়া, কলকাতা আদালতের ‘অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম আদালত’ তদন্ত, বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান, মামলা আমলে নেওয়া , বিচার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম তদারকি করবে। কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে, পোর্ট ব্লেয়ারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার বা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় মামলার শুনানি পরিচালনা করবেন।আদালত স্পষ্ট করেছে যে, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম বা জালিয়াতির মামলা পরিচালনার জন্য এই বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতগুলো গঠন করা হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বর্তমান পদমর্যাদা বা মর্যাদার কোনো পরিবর্তন হবে না।এই বিশেষ আদালতগুলো জটিল তদন্তের বোঝা লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে—বিশেষ করে যেসব মামলায় একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তি, বিপুল নথিপত্র, ডিজিটাল প্রমাণ এবং গোপনীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা বিষয়বস্তু ফাঁস করার সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ রয়েছে।নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক কেবল ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ ছাড়িয়ে ভারতের সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, পরীক্ষার অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী এবং সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে।বিশেষ আদালত গঠনের এই পদক্ষেপটি পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতিকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এবং এর বিরুদ্ধে সমন্বিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। এই শক্তিশালী আইনি কাঠামোর আওতায় কঠোর শাস্তির বিধান, দ্রুত তদন্ত এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
