সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া:
জমিতে ও মাঠে হাতির পায়ের ছাপ ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই আতঙ্ক ছড়াল বাঁকুড়ার খাতড়া ও হিড়বাঁধ ব্লকের একাধিক গ্রামে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে একটি হাতি খাতড়ার মিরগিপাহাড়ি ও হিড়বাঁধের মাইতিবাঁধ সংলগ্ন গ্রাম লাগোয়া জমির রাস্তা দিয়ে খাতড়া রেঞ্জের বনপুকুরিয়া জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।
সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ গ্রাম লাগোয়া জমিতে হাতির পায়ের ছাপ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিরগিপাহাড়ি, মাইতিবাঁধ এবং রাঙ্গামেটিয়া-সহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁদের এলাকায় আগে কখনও বুনো হাতির দেখা মেলেনি। মাঝেমধ্যে পোষা হাতি নিয়ে মাহুতরা গ্রামে এলেও বুনো হাতি এলাকায় আসার ঘটনা তাঁদের জানা নেই। আচমকা একটি বুনো হাতি এলাকায় চলে আসায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন খাতড়া ও হিড়বাঁধ রেঞ্জের বনকর্মীরা। হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখতে জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশও। পাশাপাশি, গ্রামবাসীদের সতর্ক করতে বন দফতরের পক্ষ থেকে এলাকায় প্রচার চালানো হয়েছে।
মিরগিপাহাড়ি, মাইতিবাঁধ ও রাঙ্গামেটিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের আপাতত গ্রাম লাগোয়া জঙ্গল এবং জঙ্গলের আশপাশের এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাতিটির অবস্থান খাতড়া রেঞ্জের বনপুকুরিয়া জঙ্গল এলাকায় ছিল। হাতিটি কোথা থেকে ওই এলাকায় ঢুকেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
বন দফতর সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার রাতের মধ্যে হুলা পার্টিকে কাজে লাগিয়ে হাতিটিকে খাতড়া এলাকা থেকে সিমলাপালের জঙ্গল এলাকায় পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে হাতিটি হিড়বাঁধ ব্লকের মশানঝাড় জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এলাকাবাসীদের সতর্ক করে বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতিটিকে দেখতে পেলেও কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করেন বা তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা না করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বন দফতরের কর্মীরা নিয়মিত হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখছেন।
