হাইকোর্টেরমোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা:বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলার শুনানির পর আদালত জানিয়ে দেয়, আগামী দুই সপ্তাহ আদালতের অনুমতি ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না সিআইডি।তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি হাজিরা এড়াচ্ছেন কেন?” এবং তদন্তের স্বার্থে সিআইডির ডাকে সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেন।আদালতে জানানো হয়, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি। গত কয়েক দিনে কালীঘাট রোডে তাঁর বাসভবনেও পৌঁছয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। সিআইডির দাবি, পরপর তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। এর জেরেই তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।শুনানির সময় বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানতে চান, “কবে সিআইডির সামনে হাজির হবেন অভিষেক?” জবাবে তাঁর আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আদালত নির্দেশ দেয়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সিআইডির সামনে হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, তিনি বিধায়ক নন এবং যে বৈঠককে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর বিতর্কের সূত্রপাত, সেখানে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করার সরাসরি অভিযোগও নেই বলে আদালতে দাবি করা হয়।মামলার শুনানির পর তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার শুনানি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করা হয়নি এবং তাঁকে না জানিয়েই অন্য আইনজীবীকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। এই ধরনের উদ্ধত আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।”পাশাপাশি দলীয় পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।” তাঁর আরও দাবি, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তারপরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।”এদিকে আদালতের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচে আপাতত স্বস্তি পেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ বহাল রয়েছে। দুই সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সিআইডির তদন্ত এবং পরবর্তী শুনানির দিকেই।
