মোল্লা জসিমউদ্দিন ,শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট এক মামলায় গুরত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখলো। ‘কোনও অভিযুক্তকে জনসমক্ষে অপমানজনকভাবে প্রদর্শন করা বা কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া আইন এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী’। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে রাজ্যের উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, -‘তদন্ত চললেও কোনওভাবেই অভিযুক্তের মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না’।প্রসঙ্গত, গত ২ রা জুন রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মাননীয় বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখার্জি মহাশয় রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিযুক্তদের কোমড়ে দড়ি পড়ানো নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন। যা গত ২৩ জুন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল।রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের সময় তাঁদের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যেই ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। ফলতার পুননির্বাচনের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন জাহাঙ্গির খান। পরে নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। এরপর তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে জানতে চান, -‘জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে’। পাশাপাশি, গ্রেফতারের সময় কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।শুক্রবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান , -‘কোনও অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে ঘোরানো কোনওভাবেই আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।’ রাজ্যের উচ্চ আদালত আরও জানায়, -‘তদন্ত বা গ্রেফতারের প্রক্রিয়ায় এমন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না, যাতে অভিযুক্তের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়’। এদিন রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। তিনি বলেন, -‘বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের ছবি বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব’। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করার পরই তিনি আদালতে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করবেন। রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি নির্দেশ দেন, -‘জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করা যাবে না, যা তাঁর মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকারের পরিপন্থী। ‘ আগামী ১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, -‘কেউ অপরাধ করে থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে অপমান করা, মারধর করা বা কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। তাঁর দাবি, -‘এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার প্রদর্শনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ আগামী ১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ।
