মোল্লা জসিমউদ্দিন, কলকাতা হাইকোর্ট,
রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে গত মঙ্গলবার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল সিআইডি। ওই তল্লাশি নিয়ে এবার সিআইডির বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। বুধবার হাইকোর্টে মামলার আবেদন করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত।এই হাই-প্রোফাইল তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল কালীঘাট। সিআইডির এই হঠাৎ হানায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তল্লাশি এবং বেআইনিভাবে দলের অত্যন্ত গোপনীয় নথি স্ক্যান করার গুরুতর অভিযোগ তুলে সিআইডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। গত মঙ্গলবার দুপুর ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ সই জাল কাণ্ডের তদন্তকারী সিআইডির একটি বিশেষ দল ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছায়। সিআইডির একটি বিশেষ মহিলা টিম শুরুতেই কার্যালয়ের মূল ফটক ঘিরে ফেলে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় জওয়ানরা।ঠিক ওই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দিল্লিতে রয়েছেন। এরফলে আচমকা সিআইডি দল এসে পৌঁছানোয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা দলের কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী তাঁদের পথ আটকান। পেশায় আইনজীবী শুভাশিসবাবু সিআইডি কর্তাদের সাফ জানিয়ে দেন, -‘শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে তিনি কোনওভাবেই কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকার বা তল্লাশি করার অনুমতি দিতে পারবেন না’। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে তীব্র বাদানুবাদ ও টানাপোড়েন চলে।রাজ্য তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, -‘সই জাল মামলায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই তল্লাশির প্রয়োজন ছিল। সিআইডির কাছে আদালতের দেওয়া নির্দিষ্ট ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ থাকায় শুভাশিস চক্রবর্তীর আপত্তি ধোপে টেকেনি। দীর্ঘ নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন গোয়েন্দারা এবং আলমারি ও ড্রয়ার খুলে তল্লাশি শুরু করেন।তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, -‘এই তল্লাশি প্রক্রিয়ায় কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষী রাখা হয়নি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি’। শুধু তাই নয়, সিআইডি আধিকারিকরা দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র মোবাইল ও স্ক্যানারের সাহায্যে স্ক্যান করে নিয়েছেন। এই ঘটনার পরই আইনজীবী কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানিয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
