মোল্লা জসিমউদ্দিন,
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট এর বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । জানা যাচ্ছে, তবে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা।আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, -‘প্রথমে হাইকোর্টের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশ আপলোড হওয়ার অপেক্ষা করা হবে। নির্দেশের পর্যবেক্ষণ অংশে কোন কোন বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করার পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। যদিও আদালত কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি, তবুও নির্দেশের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যৎ মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিধায়ক শোভনদেবের আইনজীবীরা।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন যে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। সেই দাবির ভিত্তিতেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে স্বীকৃতি দেন। গত তিন দিন ধরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সওয়াল-জবাব চলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। গত বুধবার সব পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলার শুনানি শেষ হয়।বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গেল বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, -‘ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই।’ এর ফলে ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন খারিজ করা হল। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তই আপাতত বহাল থাকছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও আরও জানিয়েছেন, -‘আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে’। ওই দিন সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা কখন ডিভিশন বেঞ্চে যান?
