বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্ক :
দেশজুড়ে কর্মরত ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন রাজ্য সরকার, শিক্ষক সংগঠন এবং পৃথক শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দায়ের হওয়া ৬৫টিরও বেশি রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে আগের নির্দেশ বহাল থাকছে — অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য TET পাশ করা বাধ্যতামূলকই থাকছে।
তবে শিক্ষকদের স্বস্তি দিয়ে আদালত TET পাশ করার সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে TET উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে TET পাশ না করলে চাকরিতে থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “Right to Education আইন মূলত শিশুদের স্বার্থে তৈরি হয়েছে। তাই শিক্ষকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা যাবে না।”
এই নির্দেশ বিশেষভাবে প্রযোজ্য প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানকারী নন-মাইনরিটি স্কুলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। আদালত জানিয়েছে, শিক্ষকতা পেশায় ন্যূনতম মান বজায় রাখতে TET অপরিহার্য।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষকের অবসর গ্রহণের জন্য পাঁচ বছরের কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে TET বাধ্যতামূলক হবে না বলে জানিয়েছে আদালত। এই সিদ্ধান্তে বহু প্রবীণ শিক্ষক স্বস্তি পেলেও, অন্যদিকে বহু শিক্ষক ও সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষক সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে। অনেকেই দাবি তুলেছেন, যেসব শিক্ষক Right to Education (RTE) আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হোক। পাশাপাশি বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবিও উঠছে।
