বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেক্স, দুর্গাপুর :
শিল্প, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল দুর্গাপুরের এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল প্রতিভা, নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে তুলে ধরতে ৪ ও ৫ জুন আয়োজিত হল দুই দিনব্যাপী হস্তশিল্প প্রদর্শনী “কলা সঙ্গম ২০২৬”। এনএসএইচএম ইনস্টিটিউট অফ কম্পিউটিং অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের সংস্কৃতি–নাইকা (Sanskriti–NICA) কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বহু শিক্ষার্থী এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি নানা ধরনের শিল্পকর্ম, হস্তনির্মিত সামগ্রী, চিত্রকলা, গৃহসজ্জার উপকরণ এবং সৃজনশীল নির্মাণ বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রতিটি স্টলে ফুটে ওঠে নতুন ভাবনা, শিল্পসত্তা এবং অভিনবত্বের ছাপ, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
তবে এই আয়োজন শুধুমাত্র শিল্পপ্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি পণ্য সরাসরি দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন ও বিক্রির সুযোগও পান। এর ফলে একদিকে যেমন তাঁদের সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি মিলেছে, অন্যদিকে বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও আরও দৃঢ় হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, “কলা সঙ্গম ২০২৬”-এর মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। প্রদর্শনীর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পণ্যের উপস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রচার ও বিপণন কৌশলসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
শিক্ষক ও আয়োজকদের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মী এবং দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। অংশগ্রহণকারীদের নিষ্ঠা, শিল্পভাবনা ও কারুশিল্পের দক্ষতা সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একাডেমিক শিক্ষার গণ্ডির বাইরে গিয়ে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে এনে “কলা সঙ্গম ২০২৬” শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক স্মরণীয় মঞ্চ।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই “কলা সঙ্গম ২০২৬” পরিণত হয়েছে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং তরুণ প্রতিভার এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
