বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্কআন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের হয়ে স্বর্ণপদক জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করা তরুণ অ্যাথলেট তহুরা খাতুনকে সংবর্ধনা জানালেন অ্যাথলেটিক কোচেস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদ ইসমাইল সরদার। অনুষ্ঠানে উঠে এল দেশের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তহুরার হাতে পুষ্পস্তবক, উত্তরীয়, মিষ্টি, শুভেচ্ছা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথিদের সামনে ইসমাইল সরদার বলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার একজন ক্রীড়াবিদের এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং গোটা রাজ্যের গর্ব।তিনি বলেন, “তহুরা শুধু বাংলার নয়, দেশের ভবিষ্যৎ। ওর মধ্যে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জনের সামর্থ্য রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, ধারাবাহিক অনুশীলন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”ইসমাইল সরদার আরও বলেন, দেশের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারি ও সামাজিক—উভয় স্তরেই আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, “যে মেয়েটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে স্বর্ণ এনে দিয়েছে, তার পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগও।”অনুষ্ঠানে তিনি তহুরার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়ি জীবনকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।মাত্র ১৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ফুলবাড়ির বাসিন্দা তহুরা খাতুন। ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে তহুরা ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। বর্তমানে তিনি সল্টলেকে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বারাসাতের এডামাস ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।সম্প্রতি চীনের হংকংয়ে অনুষ্ঠিত Asian U20 Athletics Championships-এর Women’s 4×400 মিটার রিলে ইভেন্টে ভারতীয় দলের সদস্য হিসেবে স্বর্ণপদক জিতে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন তহুরা খাতুন। তাঁর লক্ষ্য এখন আরও বড়— ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য আরও সাফল্য এনে দেওয়া।
