কলকাতা: রাজ্য সরকারি দপ্তরের গ্রুপ-ডি এবং গ্রুপ-সি কর্মীদের ক্লারিক্যাল ক্যাডারে পদোন্নতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। অতীতে যাঁরা নির্ধারিত বিভাগীয় পরীক্ষা না দিয়েই অথবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) বা আপার ডিভিশন ক্লার্ক (UDC) পদে উন্নীত হয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এবার নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
অর্থদপ্তরের অডিট শাখা থেকে জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পদোন্নতি বা চাকরি সরাসরি বাতিল করা হবে না। তবে পদোন্নতির বৈধতা বজায় রাখতে নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
সূত্রের খবর, ২০১৯ সালের West Bengal Services Rules কার্যকর হওয়ার পর বিভাগীয় পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর হয়। কিন্তু এর পরেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক ভুল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বহু কর্মী পরীক্ষা ছাড়াই ক্লারিক্যাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সেই জটিলতা দূর করতেই নতুন এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মীদের Netaji Subhas Administrative Training Institute (NSATI)-এর অধীনে কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং পাশ করতে হবে। পরীক্ষায় সফল হলে তাঁদের পদোন্নতি বহাল থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাও বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত পরীক্ষায় পাশ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) স্থগিত থাকতে পারে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র এই কারণে কর্মীদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না বা তাঁদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হবে না।
এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা যাঁরা অবসরের একেবারে কাছাকাছি রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যেসব কর্মীর পদোন্নতি সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলিও নতুন করে খোলা হবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিটি বিষয় প্রয়োজনে কেস টু কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের উপরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
