দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্য, কাটোয়া
রাখি বন্ধন উৎসবকে সামনে রেখে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করল হিন্দু সুরক্ষা সমিতির জেলা পূর্ব বর্ধমান, কাটোয়া বিধানসভা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে পথচলতি সাধারণ মানুষদের হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের মিষ্টিমুখ করিয়ে রাখি বন্ধনের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়।

রাখি বন্ধন বা রক্ষাবন্ধন ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনে রাখি মূলত স্নেহ, ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রচলিত প্রথায় বোন ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন। ভাইও বোনের পাশে থাকার এবং তাঁকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন। তবে সময়ের সঙ্গে রাখি বন্ধনের তাৎপর্য আরও বিস্তৃত হয়েছে। আজ অনেক ক্ষেত্রেই এই উৎসব পারিবারিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানুষের মধ্যে বন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বাংলার ইতিহাসেও রাখি বন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিতে রাখি বন্ধনকে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময় একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে রাখির সুতো শুধুমাত্র ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বর্তমান সময়ে যখন সমাজে নানা ধরনের বিভাজন ও দূরত্বের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তখন রাখি বন্ধনের মতো উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই পথচলতি মানুষদের রাখি পরিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করানোর এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন পথ চলতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের হাতে রাখি তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা। রাখি পরানোর পাশাপাশি মিষ্টিমুখ করিয়ে উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

স্বাভাবিকভাবেই এমন উদ্যোগে পথচলতি মানুষের মধ্যেও উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়।
অন্যদিকে, সংগঠনের ব্যানারে রাখি বন্ধন উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক বক্তব্য ও বিভিন্ন স্লোগানও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সাংস্কৃতিক উৎসবের আবহের পাশাপাশি সংগঠনের নিজস্ব বার্তাও এদিনের কর্মসূচিতে সামনে আসে।
সব মিলিয়ে, রাখির ছোট্ট সুতোয় ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব ও সম্পর্কের যে বার্তা বহন করে, পথচলতি মানুষদের রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানোর এই উদ্যোগ সেই সামাজিক বন্ধনের বার্তাকেই আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা।

