ছবি : সুমন মিশ্র
বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্ক | পুরীআজ জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আজই পালিত হচ্ছে ভগবান জগন্নাথদেব-এর ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ধর্মীয় রীতি ও শাস্ত্রবিধি মেনে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা-কে স্নানবেদীতে এনে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে মহাস্নান করানো হবে। এই বিরল আচারকে প্রত্যক্ষ করতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন।স্নানযাত্রার পর দেবতাদের জ্বর এসেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই কারণেই তাঁরা প্রায় ১৫ দিন জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকেন। এই সময়কে ‘অনবাসর’ (Anasara) পর্ব বলা হয়। যদিও মন্দিরের মূল দর্শন বন্ধ থাকে, তবুও দেবতাদের নিত্যপূজা ও সমস্ত ধর্মীয় আচার নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। অনবাসর পর্ব শেষ হলে রথযাত্রার আগে ‘নবযৌবন দর্শন’-এ রাজবেশে প্রথমবারের মতো ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন মহাপ্রভু, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ।জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, ভক্তি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মহাপ্রভুর মহাস্নান দর্শন করলে পাপক্ষয় হয়, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে এবং জীবনে শুভ ফল লাভ হয়।অন্যদিকে, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বট পূর্ণিমা হিসেবেও পালিত হয়। বিবাহিত নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় বটগাছের পূজা করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এ বছরের জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় একটি বিশেষ শুভযোগ গঠিত হয়েছে, যা কয়েকটি রাশির জাতক-জাতিকার জীবনে আর্থিক উন্নতি, কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও পারিবারিক সুখ-শান্তির ইঙ্গিত বহন করছে। পঞ্জিকা অনুসারে, আজ সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বট পূর্ণিমার পূজা ও ব্রত পালনের শুভ সময় হিসেবে ধরা হয়েছে।জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা, অনবাসর, নবযৌবন দর্শন এবং আসন্ন রথযাত্রা—এই ধারাবাহিক উৎসব পর্বের মধ্য দিয়েই শুরু হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবের আবহ, যার দিকে তাকিয়ে থাকেন কোটি কোটি ভক্ত।
