ব্রেকিং নিউজ
আরজিকর কান্ডে খড়দহ থানার মামলা তুলে দেওয়া হলো সিবিআইয়ের কাছে
মোল্লা জসিমউদ্দিন ,
বৃহস্পতিবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের একবার চরম বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট । আদালতের নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন মূল ঘটনার গভীরে তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন খড়দা থানার পৃথকভাবে মামলা রুজু করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ।নির্যাতিতা পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহরায় জানিয়েছেন -"আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এই ঘটনার তদন্ত আর কোনওভাবেই রাজ্য পুলিশ চালাতে পারবে না; এর পুরো দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সিবিআইকেই।' গত ২৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ খড়দা থানার আইসিকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিন। সেই নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে হাজিরা দেন ওই পুলিশ আধিকারিক। আদালতে তিনি জানান, তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট নির্দেশ আসার পরেই তারা আইনের পথে তদন্ত শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই তদন্তের নেপথ্যে উচ্চমহলের ঠিক কার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল? সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি করের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন।আর তাতেই আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আদালত। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে, আদালতের তত্ত্বাবধানে যখন সিবিআই নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তখন খড়দা পুলিশ কি সেকথা জানত না? পুলিশের আইনি জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি আরও বলেন, আদালতের সঙ্গে কি কোনও লুকোচুরি বা চালাকি করার উদ্দেশ্যে এই নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল? পুলিশের এমন ভূমিকার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে।আইনি জট এড়াতে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, খড়দা থানায় রুজু হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি অবিলম্বে ব্যারাকপুর আদালত থেকে শিয়ালদা আদালতে স্থানান্তরিত করতে হবে। যেহেতু মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া শিয়ালদহ আদালতেই চলছে, তাই সমান্তরালভাবে অন্য কোনও তদন্ত চলতে পারে না বলে রায় দিয়েছে আদালত।উল্লেখ্য, দুই বছর আগে ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই প্রমাণ লোপাট ও তড়িঘড়ি সৎকার নিয়ে সরব হয়েছিল পরিবার। পরবর্তীতে নির্যাতিতার বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের হয়। তবে হাইকোর্টের এদিনের এই রায়ের ফলে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হল সেই মামলার তদন্তের নিয়ন্ত্রণ।