28 অক্টোবর, 2026
সর্বশেষ
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় সুন্দরবনে হাই অ্যালার্ট, নদীপথে মাইকিং, প্রস্তুত ফ্লাড সেন্টার ● প্রতীক-যুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আরও ১০ দিন সময় পেল ঋতব্রত-তৃণমূল ● ওপো ইন্ডিয়া নিয়ে এল একেবারে নতুন ওপো ফাইন্ড এক্স10 সিরিজ, প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের আরও উঁচু মান নির্ধারণ করল তারা ● বিজেপি নেতার পরিবারের এক বিঘা জমির মানকচুর ফসল নষ্টের অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতার স্বামী ● ইছামতির চরে অবৈধ বালি কারবারে পুলিশের অভিযান, বাজেয়াপ্ত একাধিক নৌকা ● কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: শস্য, সমৃদ্ধি ও শুভকামনার উৎসবে বাংলার ঘরে ঘরে আরাধনা ● দুর্গাপুজো ২০২৬-এ শিয়ালদহ ডিভিশনে যাত্রীসংখ্যার রেকর্ড, যাতায়াত করেছেন ২.৬৩ কোটিরও বেশি যাত্রী ● তেঁতুলিয়ার বিজয়া দশমীর মেলায় খাদ্য দপ্তরের হানা, নষ্ট ২০০ কেজি বরফ, বাজেয়াপ্ত ২৩৫ কেজি অখাদ্য সামগ্রী ● কাঁকুড়গাছিতে কল্যাণ জুয়েলার্সের নতুন শোরুমের উদ্বোধন করবেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ● কলসা বারোয়ারি দুর্গাপুজো কমিটির অন্নমহোৎসবে সাড়ে চার হাজার মানুষের জন্য ভোজ, ধর্মীয় আবহে মিলনমেলা ● ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় সুন্দরবনে হাই অ্যালার্ট, নদীপথে মাইকিং, প্রস্তুত ফ্লাড সেন্টার ● প্রতীক-যুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আরও ১০ দিন সময় পেল ঋতব্রত-তৃণমূল ● ওপো ইন্ডিয়া নিয়ে এল একেবারে নতুন ওপো ফাইন্ড এক্স10 সিরিজ, প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের আরও উঁচু মান নির্ধারণ করল তারা ● বিজেপি নেতার পরিবারের এক বিঘা জমির মানকচুর ফসল নষ্টের অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতার স্বামী ● ইছামতির চরে অবৈধ বালি কারবারে পুলিশের অভিযান, বাজেয়াপ্ত একাধিক নৌকা ● কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: শস্য, সমৃদ্ধি ও শুভকামনার উৎসবে বাংলার ঘরে ঘরে আরাধনা ● দুর্গাপুজো ২০২৬-এ শিয়ালদহ ডিভিশনে যাত্রীসংখ্যার রেকর্ড, যাতায়াত করেছেন ২.৬৩ কোটিরও বেশি যাত্রী ● তেঁতুলিয়ার বিজয়া দশমীর মেলায় খাদ্য দপ্তরের হানা, নষ্ট ২০০ কেজি বরফ, বাজেয়াপ্ত ২৩৫ কেজি অখাদ্য সামগ্রী ● কাঁকুড়গাছিতে কল্যাণ জুয়েলার্সের নতুন শোরুমের উদ্বোধন করবেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ● কলসা বারোয়ারি দুর্গাপুজো কমিটির অন্নমহোৎসবে সাড়ে চার হাজার মানুষের জন্য ভোজ, ধর্মীয় আবহে মিলনমেলা ●

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: শস্য, সমৃদ্ধি ও শুভকামনার উৎসবে বাংলার ঘরে ঘরে আরাধনা

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো: শস্য, সমৃদ্ধি ও শুভকামনার উৎসবে বাংলার ঘরে ঘরে আরাধনা
বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্ক শারদোৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই বাংলার ঘরে ঘরে ফিরে আসে আর এক পবিত্র উৎসব—কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। দুর্গাপুজোর পর পূর্ণিমার স্নিগ্ধ আলোয় এই উৎসব বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি, শস্যের প্রাচুর্য এবং সুখী সংসারের প্রত্যাশা। বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এই পুজো কেবল দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা নয়, বরং পরিবারের মঙ্গলকামনা, কৃষিজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক সুন্দর প্রকাশ। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে প্রচলিত রীতি অনুসারে পালিত হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ‘কোজাগরী’ শব্দটি ‘কো জাগর্তি’ কথাটি থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়, যার অর্থ—‘কে জেগে আছ?’ লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিদর্শন করেন এবং যাঁরা নিষ্ঠা, পরিচ্ছন্নতা ও ভক্তির সঙ্গে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই বাংলার বহু পরিবারে রাত জেগে পুজো করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

ঘরে ঘরে আলপনা, ধানের শিষ ও প্রদীপে সাজছে লক্ষ্মী আরাধনা

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল বাঙালির নিজস্ব ঘরোয়া আয়োজন। পুজোর আগে বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজিয়ে তোলা হয়। উঠোনে কিংবা বাড়ির প্রবেশপথে চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা হয় ঐতিহ্যবাহী আলপনা। আলপনার মধ্যে ফুটে ওঠে পদ্মফুল, ধানের শিষ এবং দেবী লক্ষ্মীর চরণচিহ্ন। কোথাও লক্ষ্মীর সরা, কোথাও প্রতিমা, আবার কোথাও ঘটে দেবীর পুজো করা হয়। পুজোর উপকরণ হিসেবে ধান, দুর্বা, ফুল, ফল, পান, সুপারি, মিষ্টি, নারকেল, চিঁড়ে, মুড়ি ও খই ব্যবহারের রীতি রয়েছে। অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপাঁচালি পাঠ করা হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির ছোট থেকে বড়—সকলের অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে পারিবারিক মিলন ও আনন্দের উপলক্ষ।

কৃষি, শস্য ও সমৃদ্ধির সঙ্গে লক্ষ্মীপুজোর যোগ

বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজে দেবী লক্ষ্মীকে শস্য, উর্বরতা ও প্রাচুর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ধান বাঙালির প্রধান খাদ্যশস্য হওয়ায় লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে ধান ও গোলাভরা ফসলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গ্রামবাংলার বহু পরিবারে নতুন ধান, শস্যের শিষ কিংবা ধানভর্তি পাত্র পুজোর উপকরণ হিসেবে রাখা হয়। এর মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পায় কৃষকের পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগামী দিনে ভালো ফসলের প্রত্যাশা। দেবী লক্ষ্মীকে শুধু অর্থসম্পদের দেবী হিসেবে নয়, সংসারের শান্তি, সৌভাগ্য, পরিচ্ছন্নতা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবেও মানা হয়। লোকবিশ্বাসে, যে সংসারে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে, সেই সংসারেই প্রকৃত সমৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়। এই ভাবনাই লক্ষ্মীপুজোর সামাজিক তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

পূর্ণিমার রাতে জাগরণ ও ধর্মীয় আচার

কোজাগরী পূর্ণিমাকে ঘিরে রাত জাগার একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং জেগে থাকা ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘কোজাগরী’ নামের প্রচলন। অনেক বাড়িতে রাত পর্যন্ত পুজো, লক্ষ্মীপাঁচালি পাঠ, ভজন ও পারিবারিক ধর্মীয় আচার চলে। তবে পুজোর নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম পরিবার এবং পঞ্জিকাভেদে আলাদা হতে পারে। এই উৎসবের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল সংযম, কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনা। জীবনে যা কিছু পাওয়া গিয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং আগামী দিনে পরিবারের সকলের সুস্থতা, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করাই এই আরাধনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

ঐতিহ্যের বন্ধনে একসূত্রে বাঙালি

দুর্গাপুজোর সার্বজনীন আনন্দের পর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো যেন বাঙালিকে ফিরিয়ে আনে নিজের ঘরের অন্দরমহলে। দুর্গাপুজো যেখানে বড় আয়োজন, মণ্ডপ ও জনসমাগমের উৎসব, সেখানে লক্ষ্মীপুজোর প্রধান আকর্ষণ পারিবারিক ঐতিহ্য, ঘরোয়া ভক্তি এবং আন্তরিকতা। পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে প্রসাদ বিনিময়, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং একসঙ্গে পুজোয় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হয়। সময়ের পরিবর্তনে পুজোর আয়োজনে নানা নতুনত্ব এলেও আলপনা আঁকা, লক্ষ্মীপাঁচালি পাঠ, প্রদীপ জ্বালানো এবং পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনার রীতি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালির সংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে।

সমৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিকতার বার্তা

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু অর্থ বা সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের মানুষের ভালো থাকা, পরিশ্রমের মর্যাদা, সততার সঙ্গে জীবনযাপন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার আলো পৌঁছয় সকলের জীবনে। ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর, রবিবার পালিত হচ্ছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাংলার ঘরে ঘরে এই শুভক্ষণে দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা—সকলের জীবন ভরে উঠুক সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য, শস্যের প্রাচুর্য ও সৌহার্দ্যে। দূর হোক অভাব, অশান্তি ও দুঃখ; প্রতিষ্ঠিত হোক সততা, মানবিকতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা। শুভ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। সকলের ঘরে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।