উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সোলাদানা ও গজালমারি এলাকায় ইছামতি নদীর চর থেকে অবৈধভাবে সাদা বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একাধিক বালিবোঝাই নৌকা বাজেয়াপ্ত করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ। পাশাপাশি, অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, ইছামতি নদীর চর থেকে নৌকার সাহায্যে সাদা বালি তুলে তা বিভিন্ন ইটভাটা-সহ এলাকার নানা জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই নদীর ওই অংশে এই কারবার চলছিল বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়।
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়ালের নির্দেশে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকোলকর রাকেশ মহাদেবের নেতৃত্বে এবং বসিরহাট থানার আইসি মহম্মদ ফিরোজ আলীর সহযোগিতায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকটি নৌকা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও এই অবৈধ বালি উত্তোলনের কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। যদিও এই ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, নদীর চর থেকে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালি উত্তোলনের ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও চরিত্রের পরিবর্তন, নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং নদীপাড়ের ক্ষয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন মহলের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ ও জনজীবনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। বর্ষার সময় নদীর জলস্তর বাড়লে কিছু এলাকায় প্লাবনের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পুলিশের এই অভিযান কতটা কার্যকর হয় এবং অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।