রাজ্য
চোরবাগান কাণ্ডের পর পুজোর নিরাপত্তায় জোর, কলকাতা পুলিশে ফিরছেন ৯ আইপিএস
বিশ্ব দর্পণ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর শহরের পুজোমণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুজোর ভিড় সামলাতে অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সতর্কতামূলক নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুজোর সময় শহরের বড় মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজে নয় জন আইপিএস আধিকারিককে সাময়িকভাবে কলকাতা পুলিশের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর। তাঁদের প্রত্যেকেরই অতীতে কলকাতায় দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তাঁদের যোগদানের বিষয়টি সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের নির্ধারিত দায়িত্বের জায়গায় উপস্থিত থাকার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলেও যাতে নিরাপত্তার কাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনে রেনকোট সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ভিআইপি-দের গাড়ি মণ্ডপের একেবারে কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। পুজো কমিটির তরফে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কী ঘোষণা করা হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে পুলিশকে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নির্ধারিত পথে হঠাৎ পরিবর্তন না করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়াতে প্রত্যেক পুলিশ আধিকারিক ও কনস্টেবলকে পুজো কমিটির পাঁচ থেকে ছয় জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে পর্যাপ্ত দড়ি, গার্ডরেল এবং ছোট স্পিকার প্রস্তুত রাখার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চোরবাগানের ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে পুজো কমিটির কয়েক জন পদাধিকারী, ভিআইপি পাস পরিচালনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত ব্যক্তি এবং একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মী রয়েছেন বলে খবর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুর্গাপুজোর বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।